রোজ একটি করে তুলসীপাতা খেলে কী কী উপকার পাবেন জেনে নিন

আয়ুর্বেদিক মতে তুলসীপাতা বিভিন্ন ব্যাধি ভালো করে। হার্টের অসুখ ইসকিমিয়ার চিকিৎসায় তুলসীপাতা ভালো কাজ দেয়। পাঁচবছর ধরে তুলসীপাতা নিয়ে গবেষণা করছেন ডাঃ পি. জি. কুরুপ। তুলসীপাতা সেবনের কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। যখন ইচ্ছা যতগুলি ইচ্ছা কাঁচাপাতা চিবিয়ে খাওয়া যায়।

বনৌষধির মধ্যে তুলসী সর্বোৎকৃষ্ট বলে স্বীকার করা হয়েছে। মেটেরিয়া মেডিকোতে এই গাছকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে।

আগেকার দিনে মুনিঋষিরা তুলসীপাতা দিয়ে নানা ঔষুধ তৈরি করতেন। এমনকি মুনিঋষিরা বলেছেন, তুলসীগাছের মধ্যে একটা আধ্যাত্মিক শক্তি আছে যা মনোযোগ বাড়ায় ও অপূর্ব একটা মানসিক শান্তি প্রাপ্ত হয়।

প্রাত্যহিক জীবনে তুলসীপাতার গুনাগুন :

১. তুলসীপাতা চিবোলে দাঁতে পোকা লাগে না। দাঁত মজবুত, উজ্জ্বল হয় এবং দাঁতের আয়ু বাড়ে।

২. তুলসীর গন্ধ রক্তবিকার নাশ করে।

৩. কার্ত্তিক মাসে প্রতিদিন প্রাতঃকালে দু -তিনটি করে তুলসীর পাতা খালিপেটে চিবিয়ে খেলে পুরো বছর কোনও প্রকার রোগ হবে না। কার্ত্তিক মাসের আবহাওয়ায় তুলসীপাতার প্রয়োগ সর্বদা দেহকে নীরোগ করে।

৪. তুলসীগাছ স্বভাবশতঃ সাত্বিকতা নিয়ে আসে ও চিত্তের একাগ্রতা আনে। এর কাছে বসলে বা দাঁড়ালে মানসিক একাগ্রতা বাড়ে।

৫. সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ কালে তুলসীর পাতা খাবার ও জলে দিয়ে খাদ্যবস্তুতে রেখে দিলে গ্রহণের সময় দূষিত আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে না।

৬. তুলশিরপাতার রস নিয়ে মালিশ করলে হাড় শক্ত হয় , দেহকে নীরোগ রাখে। সাবান, তেল, ক্রীম প্রভৃতির স্থলে তুলসীর রস প্রয়োগ করলে নানাপ্রকার দৈহিক সুস্থতা লাভ হয়।

৭.তুলসীগাছ আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক বলে মানা হয়েছে। তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালালে এবং তুলসীগাছকে প্রদক্ষিণ করলে অপূর্ব মানসিক শান্তি প্রাপ্ত হওয়া যায়।

৮. খাবার জলের পাত্রে তুলসীর পাতা রেখে সেই জল পান করলে উদর সংক্রান্ত কোনও রোগ হবে না।

৯. স্নান করার আগে তুলসীর কিছু পাতা জলে দিয়ে কিছুক্ষন বাদে সেই জলে স্নান করলে কোনও প্রকার চর্মরোগ হয় না।

১০. তুলসীর মালা কণ্ঠে ধারণ করলে শরীর সর্বদা সুস্থ থাকে।

Share this post

Post Comment