৯ কোটি বছর পর মুক্তি পেল মৎস্যাবতার! জানলে অবাক হবেন

বেশিরভাগ বাঙ্গালী মাছ ভাতেই খুশি। দাদু, ঠাকুমার মুখে শোনা যায় মাছ হলো শুভ। তাই যে কোনো শুভ কাজে মাছ দেয়া হয় বা মাছ রান্না করা হয়। কোথাও পুকুর বা নদী থেকে মাছ ধরে তেল, মশলা দিয়ে তা রেঁধে বিভিন্ন স্বাদে পরিবেশিত হয় খাওয়ার পাতে।

পূর্বপুরুষের মুখে শোনা যায়, আগেকার সময় দাদু ঠাকুরদারা পুকুর বা নদীর মাছই খেতে ভালো বাসতেন। কিন্তু এখনকার দিনে সামুদ্রিক নানা মাছ মানুষের প্রিয় খাদ্য তালিকার মধ্যে চলে এসেছে। সেই মাছ নানা রকম ভাবে রেঁধে নানা রকম স্বাদে পরিবেশিত হচ্ছে। এখন বাঙ্গালী ছাড়াও অনেক অবাঙ্গালীর কাছে মাছ প্রিয় খাদ্য হয়ে উঠেছে।

প্রকৃতির নিয়ম মেনে জলজ প্রাণীদের মধ্যেও নানা বিবর্তন ঘটেই চলেছে। সম্প্রতি এমনই এক খবর প্রকাশিত হয়েছে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

সংবাদমাধ্যমে জানা গিয়েছে, ১০ বছরের এক খুদে পর্যটক কলম্বিয়ার লা ক্যান্ডেলারিয়া নামে এক মনাস্টরি দর্শন করতে গিয়ে চলার পথেই হঠাৎ তার নজরে আসে একটি পাথর। খুদে পর্যটক দেখেন এই পাথরটি সব পাথরের থেকে আলাদা। পাথরটির মধ্যে যেন মাছের আকারের কোনো বস্তু আটকে রয়েছে।

খুদে পর্যটক একটু আলাদা জিনিস ভেবে ছবি তুলে নেয়। এবং তা কোনও ভাবে পৌঁছে যায় স্থানীয় মিউজিয়মের জীবাশ্মবিদদের হাতে। মিউজিয়ামের জীবাশ্মবিদরা খুঁটিয়ে দেখে কোনো কিছু বুঝতে না পেরে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় গবেষণার জন্য।

গবেষণা করে জানা যায়, পাথরের তলায় যে জীবাশ্মটি পাওয়া গেছে তা একটি মাছের। গবেষকদের মতে, এই জীবাশ্মটি ‘লিজার্ড ফিশ’ প্রজাতির। এই প্রজাতির মাছ প্রায় ৯ কোটি বছর আগে পাওয়া যেত এবং বর্তমানে এই মৎস্য প্রজাতির কোনও দূরের আত্মীয়ও টিকে নেই।

গবেষণার মূল কাজটি হয় কানাডার ইউনিভারসিটি অফ অ্যালবার্টা-য়। গবেষণার নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অফ সিস্টেমেটিক প্যালিয়োন্টোলেজি’-তে। কলম্বিয়াতে এই প্রথম এমন জীবাশ্মের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে বলে গবেষকরা খুব খুশি হয়েছেন।

Share this post

Post Comment